
মৌলভীবাজারের
কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তালিকায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে কৃষিবিদ মুঈদ আশিক চিশতীর নাম। শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণাধর্মী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে অনেকেই তাকে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন।
মুঈদ
আশিক চিশতী একজন উচ্চশিক্ষিত কৃষিবিদ। কৃষি বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গবেষণার সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর কৃষি খাতে
অবদানের জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছেন। পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও
একাধিকবার সেরা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য রয়েছে।
পারিবারিকভাবে
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তার একটি পরিচিত অবস্থান রয়েছে। তিনি মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ)
আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সন্তান। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। একসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও পরবর্তীতে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান।

স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, মুঈদ আশিক চিশতীও অতীতে বিএনপি থেকে একবার এবং স্বতন্ত্রভাবে একবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখন তার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থিতা নিয়ে এলাকাজুড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
কমলগঞ্জ
পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানা গেছে। অনেকে মনে করছেন, একজন শিক্ষিত, গবেষণাধর্মী ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি নেতৃত্বে
এলে পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি
যুক্ত হতে পারে।
স্থানীয়
বাসিন্দারা তার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। পৌর এলাকার ব্যবসায়ী সাকের চৌধুরী বলেন, “আমরা চাই শিক্ষিত ও সৎ মানুষ
নেতৃত্বে আসুক। মুঈদ আশিক চিশতী পড়াশোনা করা মানুষ। তিনি নির্বাচনে এলে তরুণ সমাজও তাকে সমর্থন দিতে পারে।”
প্রত্যুষ
ধর, এনাম হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, “পৌরসভার উন্নয়নে
পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কৃষি ও গবেষণার অভিজ্ঞতা
থাকায় তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।”

তরুণ
সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যেও তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। মোঃ হোসেন চৌধুরীর বলেন, “আমরা নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব দেখতে চাই। তিনি যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে তরুণদের একটি বড় অংশ তার
পাশে থাকবে। ”
এদিকে
নির্বাচন প্রসঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি মুঈদ আশিক চিশতী। তিনি বলেন, “আমি মূলত কৃষি ও গবেষণার কাজেই
যুক্ত। তবে কমলগঞ্জ আমার জন্মভূমি। এলাকার মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসার কথা
শুনছি। দলীয় সমর্থন ও জনগণের প্রত্যাশা
বিবেচনায় ভবিষ্যতে বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে।”
তিনি
আরও বলেন, “রাজনীতি মানুষের সেবা করার একটি মাধ্যম। সুযোগ পেলে আমি কমলগঞ্জ পৌরসভাকে উন্নত, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর
হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই।”
স্থানীয়
পর্যায়ে আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য। জানা যায়, তার চাচা কমলগঞ্জে একজন স্বনামধন্য চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই পারিবারিক ধারা ও জনসেবার অভিজ্ঞতাকে
কাজে লাগিয়ে তিনি রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হচ্ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অনেকের মতে, বাপ-চাচার মতোই তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসছেন, যা তাকে জনসম্পৃক্ত
নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
সব মিলিয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মুঈদ আশিক চিশতীকে ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।