
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি বসতঘরের সিলিং থেকে প্রায় ১০ ফুট দীর্ঘ একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ছাত্রাবট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে গৃহস্বামী খলিল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের সিলিংয়ের বাঁশের ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকা বিশালাকার সাপটি দেখতে পান। হঠাৎ ঘরের ভেতরে এত বড় সাপ দেখে পরিবারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক মানুষ খলিল মিয়ার বাড়িতে ভিড় করেন। এ সময় কয়েকজন সাপটিকে মেরে ফেলার চেষ্টাও করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় একজন সচেতন ব্যক্তি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দেন। এরপর ফাউন্ডেশনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দক্ষতার সাথে সাপটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ। পরে সাপটি স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফাউন্ডেশনের পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ২০ থেকে ২২ কেজি।
শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক জানান, উদ্ধার করা অজগর সাপটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, অজগর বাংলাদেশে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। এটি মেরে ফেলা বা আটক রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনের পাশে লোকালয়ে এ ধরনের সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থাকে অবহিত করাই সঠিক পদক্ষেপ।