আমাদের ঘুম ভাঙার পর প্রথম কাজ-ব্রাশ করা। কিন্তু সেই টুথব্রাশটি আমরা কোথায় রাখছি, সেটাও কি আমরা ভেবে দেখছি? বেশিরভাগ মানুষই তাদের ব্রাশ রাখেন টয়লেট বা বাথরুমে। অনেকের চোখে এটি খুব সাধারণ একটি ব্যাপার, কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ছোট অভ্যাসটি হতে পারে এক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির উৎস। বিশেষ করে, টয়লেটের খুব কাছে ব্রাশটি রাখলে আপনার অজান্তেই ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে যেতে পারে। এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসক ডঃ স্যামুয়েল চৌধুরী বলেন, এই সাধারণ অভ্যাসটি অনেক অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। পাশাপাশি টুথব্রাশ পরিষ্কার রাখতে ও মুখের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে কিছু উপায়ের কথা জানান তিনি।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, টয়লেটে রাখা ৬০ শতাংশ টুথব্রাশে মল থাকে। তবে অনেকে মনে করে থাকেন টুথব্রাশ ঢাকনাযুক্ত হলে নিরাপদ থাকে কিন্তু এই ঢাকনার কারণে টুথব্রাশ ভিজে থাকে যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।
ডঃ চৌধুরী আরো বলেন, টয়লেট না বাথরুমে ব্রাশ রাখা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলোর মধ্যে একটি কারণ যখন আমরা টয়লেট ফ্লাশ করি, তখন প্রচুর জীবাণু বাতাসে নির্গত হয়। যা ব্রাশে গিয়ে জমে থাকে। পরবর্তীতে আমরা যখন ব্রাশ করতে নেই তখন অনেক ক্ষতিকর জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া আমাদের মুখে প্রবেশ করে।
যেভাবে টুথব্রাশ পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখবেন
ডঃ চৌধুরী টুথব্রাশ পরিষ্কার, নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস শেয়ার করেছেন:-
ব্রাশ করার পর টুথব্রাশটিকে সোজা করে রাখুন যাতে খুব দ্রুত পানি শুকিয়ে যায়।
টয়লেট থেকে দূরে ৬ ফুট বা তার বেশি দূরত্বে সরিয়ে এনে একটি শুষ্ক ও বায়ুচলাচলযুক্ত জায়গায় রাখুন।
ফ্লাশ করার আগে টয়লেটের ঢাকনা বন্ধ করে দিন যাতে বাতাসে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে না পড়ে।
প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর আপনার টুথব্রাশ বা ব্রাশের মাথা পরিবর্তন করুন।
টুথব্রাশে ঢাকনা ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন কারণ এটি ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করে।
তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এ ধরণের অভ্যাস বর্জন করুন। কেননা এ ধরণের অভ্যাস একসময় আপনার অনেক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস