“কথায় নয়, কাজে প্রমাণ”—এমন প্রত্যাশাই এখন শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের মানুষের চোখে-মুখে। নির্বাচনের উত্তাপ পেরিয়ে ভোটের ফল ঘোষণার পর নতুন করে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশের সময়। প্রতিশ্রুতির খাতা থেকে কতটা নামবে বাস্তবের মাটিতে—সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন ভোটাররা।
পোস্টাল ভোটসহ মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়ে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন কবে ও কীভাবে শুরু হবে?

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও সুপরিকল্পিত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে একটি বিস্তারিত উন্নয়ন মাস্টার প্ল্যান লিফলেট আকারে বিতরণ করেন তিনি।
ইশতেহারে ছিল দুর্নীতি, অনিয়ম ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, মাদক নির্মূল, কৃষক-শ্রমিক ও চা শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার।
এছাড়া পর্যটন ও চা শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মনু নদীর তীরে স্থায়ী সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, পাহাড়ি ছড়ার সংস্কার, কমলগঞ্জে মেডিকেল কলেজ ও শ্রীমঙ্গলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকীকরণ, গ্রামীণ সড়ক সংস্কারসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
চা শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল নির্মাণ, হাইল হাওর কেন্দ্রিক মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, স্থানীয় তাঁত শিল্পের বিকাশ, কৃষির আধুনিকায়ন এবং মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের মতো বিষয়ও ছিল তাঁর প্রতিশ্রুতির তালিকায়।
নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, জনগণের সমর্থন পেলে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হবে।
এখন বিজয়ের পর শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জবাসীর একটাই প্রত্যাশা—ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে; বাস্তব উন্নয়নের দৃশ্যমান চিত্র যেন ফুটে ওঠে জনপদজুড়ে। সময়ই বলে দেবে, অঙ্গীকার কতটা রূপ নেয় বাস্তবতায়।
মন্তব্য করুন