দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে অবশেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কের এলাকায় বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
গত রোববার দুপুর থেকে বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী ওই সড়কের একটি অংশে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সংবর্ধনা কমিটির সদস্যরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন, যেন এই মাহেন্দ্রক্ষণটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকে।
বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমান লন্ডন থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সিলেট হয়ে ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি বনানী ও কাকলী হয়ে ৩০০ ফিট সড়কের সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছাবেন এবং সেখানে উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অর্ধকোটির বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমরা আশা করি এই সংবর্ধনা হবে নজিরবিহীন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ আসবে, এবং প্রিয় নেতাকে বীরের স্বীকৃতিতে বরণ করবে।”
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রিজভী নিজে মঞ্চের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, নিরাপত্তার জন্য সরকারের পাশাপাশি দল থেকেও কঠোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছাবেন, তারপর এভারকেয়ারে তার মা, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
সংবর্ধনার আয়োজনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে সালাহউদ্দিন আহমদকে আহ্বায়ক এবং রুহুল কবির রিজভীকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
লক্ষ্য রাখা হয়েছে, সারা দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মানুষ যাতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, এজন্য বাস, লঞ্চ, স্পেশাল ট্রেন ও অতিরিক্ত বগি ব্যবস্থার আবেদন ইতোমধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে করা হয়েছে। তবে জনদূর্ভোগ এড়াতে পুরো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানী জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সেই মুহূর্তের জন্য, যখন প্রিয় নেতা তারেক রহমান দেশের মাটিতে পা রাখবেন এবং লাখো মানুষের উল্লাসের ঢেউ বয়ে যাবে রাজধানীর আকাশে।
২৫ ডিসেম্বর—দিনটি হয়ে উঠছে শুধু বিএনপির নয়, সমগ্র দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়।
মন্তব্য করুন