শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে আসছে ‘স্বাধীনতা উৎসব ২০২৬’। দীর্ঘদিন পর একত্রিত হয়ে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এই উৎসব উদযাপন করতে যাচ্ছে।
স্বাধীনতা উৎসব ২০২৬ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে আগামী ২৭ ও ২৮ মার্চ শ্রীমঙ্গল পৌরসভা প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে নানা ধরনের পরিবেশনা থাকবে।
এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছে শ্রীমঙ্গলের একাধিক স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন, যার মধ্যে রয়েছে আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়, সুরাঙ্গন সংগীত বিদ্যালয়, বর্ণমালা সংগীত বিদ্যালয়, নৃত্যাঙ্গন, নৃত্যালয়, নাট্যবেদ, উচ্ছ্বাস থিয়েটার, বিজয়ী থিয়েটার, মনোজকল্প, কচিকাঁচা, উদীচী, আবৃত্তি শিল্পী সংসদ এবং টিউনস মিউজিক্যাল একাডেমী। এসব সংগঠন তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে গান, নৃত্য, নাটক ও আবৃত্তির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা উপস্থাপন করবে।
অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
স্বাধীনতা উৎসব ২০২৬ উদযাপন পরিষদের মুখপাত্র দোলোয়ার হোসেন মামুন বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আবারও একত্রিত করে প্রাণবন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে।
পরিষদের আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ রায় বিষু বলেন, শ্রীমঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এবং সঠিকভাবে তুলে ধরতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা অপরিহার্য। ধারাবাহিকভাবে সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত না থাকলে ভবিষ্যতে এ সমৃদ্ধ ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংস্কৃতির এই ধারা ধরে রাখতে সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজকরা আশা করছেন, এই উৎসব শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক ঐক্যকে সুদৃঢ় করার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।