চায়ের জনপদ
প্রকাশ : Jan 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিয়ে মানেই খরচ নয়, এবার বিয়ে করলেই মিলবে লাখ লাখ টাকা!

বিয়ে—শব্দটি শুনলেই অনেকের মাথায় ভেসে ওঠে মোটা অঙ্কের খরচের হিসাব। কেউ বিয়েতে ব্যয় করেন কয়েক লাখ, কেউ আবার কোটি টাকাও ঢেলে দেন একদিনের আয়োজনে। হল বুকিং, গয়না, অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে বিয়ে যেন এখন আর শুধু সম্পর্কের বন্ধন নয়, বরং বড় আর্থিক চাপের নাম।
কিন্তু যদি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেই উল্টো টাকা পাওয়া যায়—তাহলে?

ঠিক এমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আল হাবতুর গ্রুপ। তরুণদের পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা করেছে—বিয়ে করলে মিলবে মোটা অঙ্কের নগদ অনুদান, আর সন্তান জন্ম নিলে সেই সুবিধা হবে দ্বিগুণ।

দুবাইভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, প্রখ্যাত ধনকুবের খালাফ আল হাবতুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো আমিরাতি নাগরিক যদি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাকে দেওয়া হবে ৫০ হাজার দিরহাম নগদ সহায়তা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ টাকা।

এতেই থেমে নেই এই প্রণোদনা।
বিয়ের পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে সন্তান জন্ম নিলে ওই দম্পতিকে দেওয়া হবে দ্বিগুণ অনুদান—১ লাখ দিরহাম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ লাখ টাকার সমান।

খালাফ আল হাবতুরের মতে, বিয়ে ও পরিবার গঠন নিছক ব্যক্তিগত বিষয় নয়।
তিনি বলেন,
“একটি শক্তিশালী সমাজ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হলো পরিবার। তাই বিবাহ ও সন্তান লালন-পালন সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্বের অংশ।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই তরুণদের পারিবারিক জীবন শুরু করতে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে শুধুমাত্র সরকারের ওপর নির্ভর না করে দেশের প্রতিটি সক্ষম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদেরও এই দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ, যার মধ্যে স্থানীয় নাগরিকের হার মাত্র ১৫ শতাংশ। ফলে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষা, স্থানীয় নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারকেন্দ্রিক সমাজ গড়ে তোলার বিষয়টি দেশটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আল হাবতুর গ্রুপের এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক প্রণোদনা নয়—বরং এটি বেসরকারি খাতে আমিরাতি নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, পারিবারিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি দূরদর্শী সামাজিক বিনিয়োগ।

বিয়ে যেখানে অনেকের কাছে দায় ও দুশ্চিন্তার কারণ, সেখানে আল হাবতুর গ্রুপ দেখিয়ে দিল—ঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে বিয়ে হতে পারে নিরাপত্তা, স্বস্তি আর ভবিষ্যতের ভরসা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন

1

শেখ হাসিনার সঙ্গে আ.লীগেরও বিচার করা উচিত : মির্জা ফখরুল

2

ঐতিহাসিক ভূমিধস! ৫৫ বছরের দুর্গ ভেঙে মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপ

3

শ্রীমঙ্গলে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান

4

শ্রীমঙ্গলে সংবাদকর্মী খেয়ে ফেলছে ডিসি এসপি’র চাকরি! সংবাদ সম

5

শ্রীমঙ্গলে পুলিশের পাশে আওয়ামী লীগ নেতাকে বসিয়ে আইনশৃঙ্খলা স

6

আমিরাতে ফের দেখা মিলল শামীম ওসমান! পালিয়ে যাওয়া রাজনীতিকের প

7

শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ছাত্রদল সদস্যের পরিবারকে সমব

8

সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আরজু মিয়া স্মরণে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট

9

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

10

যে ৫ দেশে সহজেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায়

11

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

12

বিজয়ের পরই পোস্টার অপসারণে মাঠে এমপি হাজী মুজিব পরিচ্ছন্ন শ্

13

শ্রীমঙ্গলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস-২০২৫ উদযাপন

14

পুলিশ দেখে ইয়াবা চিবিয়ে নষ্ট করার চেষ্টা, অবশেষে মাদক ব্যবসা

15

২৪ জুলাই মৌলভীবাজারে জেলা বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্য

16

শ্রীমঙ্গলের ঐতিহাসিক নির্মাই শিববাড়িতে দুইদিনব্যাপী শিব চতুর

17

শ্রীমঙ্গলে ফ্রীজ ও টিভি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধন

18

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

19

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

20