স্মার্টফোন, ট্যাব কিংবা কম্পিউটারের পর্দায় চোখ রেখে কাটছে নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশের সময়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমিং আর নানা ডিজিটাল বিনোদনের ভিড়ে ধীরে ধীরে কমছে বই পড়ার অভ্যাস। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের আবারও বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। দুই মাস ধরে চলা সেই বই পড়া উৎসব শেষ হয়েছে ৭০ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে এ উৎসবের। ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ স্লোগানে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী দেবাশীষ দাস।
দুই মাসের পাঠাভ্যাসভিত্তিক কার্যক্রম শেষে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৭০ শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে সাতজনকে দেওয়া হয় বিশেষ ‘বেস্ট রিডার’ সম্মাননা। তাদের হাতে সনদ, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।
পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি সমাপনী আয়োজনে ছিল শিক্ষার্থীদের গান ও নৃত্য পরিবেশনা। এতে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও বই পড়ার অভ্যাসকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত জীবনের অংশ করে তোলার প্রত্যাশার কথা জানান আয়োজকেরা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীকে এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। দুই মাসব্যাপী আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি করা এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা।
আয়োজকদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তির এই সময়ে বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তাই এমন উদ্যোগ শুধু একটি প্রতিযোগিতা বা উৎসব নয়; বরং শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বিকাশের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রয়াস। বইয়ের সঙ্গে তৈরি হওয়া এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তিবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।
মন্তব্য করুন