মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মো. শাহীন মিয়া। লন্ডনপ্রবাসী এই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা শাহীন মিয়া মরহুম মো. আবুল কাশেম ও মোছা. মনোয়ারা বেগমের ছেলে। তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট থেকে মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং লন্ডনে বসবাস করছেন।
শাহীন মিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিলেট বিভাগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের কথাও জানান তিনি।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাট আরোপবিরোধী আন্দোলন, হরতাল, অবরোধ, মশাল মিছিল, অনশন ও কাফন মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন শাহীন মিয়া। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও অংশগ্রহণের কথা জানান তিনি। এছাড়া সিলেট কোর্ট পয়েন্টে একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার কথাও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিবরণে উল্লেখ করেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথাও জানিয়েছেন শাহীন মিয়া। তিনি BNCC-এর সার্জেন্ট ও স্কাউট ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান। শ্রীমঙ্গল কচিকাঁচার মেলার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি ঢাকা শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুদ্ধ আবৃত্তির সনদ অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। মিরপুরের লিজেন্ট ক্রিকেট ক্লাবের প্রথম বিভাগ নারী ক্রিকেট দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০১৭ ও ২০১৯ সালে সিলেটে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল-টি২০) বিভিন্ন আসরে প্রোটোকল, লজিস্টিকস ও ফিল্ড অপারেশনের দায়িত্বে কাজ করার কথা জানান তিনি। ২০১৭ সালে ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক একটি সেমিনারে অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছেন শাহীন মিয়া।
ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পদটিকে ক্ষমতার জায়গা নয়, মানুষের সেবা ও জবাবদিহিতার দায়িত্ব হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন শাহীন মিয়া। তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগ, তরুণদের জন্য কারিগরি দক্ষতা, কম্পিউটার ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স।
এছাড়া নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব উপজেলা গড়ে তোলা, নিয়মিত গণশুনানি ও জনসংযোগের মাধ্যমে মানুষের কথা শোনা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন তিনি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন শাহীন মিয়া।
শাহীন মিয়ার ভাষ্য, “মানুষের পাশে থাকা, তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা এবং একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সম্ভাবনাময় উপজেলা গড়ে তোলার চেষ্টা করাই আমার লক্ষ্য।” তিনি দায়িত্ব পেলে জনগণের কাছে কাজের হিসাব তুলে ধরার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, মাদকমুক্ত সমাজ, কর্মমুখী তরুণ প্রজন্ম এবং জবাবদিহিমূলক জনসেবাকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলের মানুষের পাশে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
মন্তব্য করুন