চায়ের জনপদ
প্রকাশ : Aug 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইতিহাসের মোড় ঘোরানো অভ্যুত্থান

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তীতে তা সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বৃহত্তর সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীও নানাভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।

আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, সহিংসতা, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও কারফিউ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনা আন্দোলনে নতুন গতি আনে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবি থেকে সরে এসে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে।

৪ আগস্টের সংঘাতের পর ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে লাখো মানুষ অংশ নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং পরবর্তীতে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ অভ্যুত্থান শুধু কোটা আন্দোলনের ফল ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্ক এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ছিল। তাঁদের মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয় এবং রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আলোচনা নতুন গতি পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকীর মতে, বিপ্লব-পরবর্তী সময় সব দেশেই চ্যালেঞ্জপূর্ণ হলেও শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, কর্তৃত্ববাদ থেকে গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে জাতীয় আলোচনা শুরু হওয়াই অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এবং তা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়াই ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরা হলো না সিপিজি সদস্য সিরাজ মিয়ার

1

শ্রীমঙ্গলে চা'বাগানে আন্তজার্তিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে অভিভাব

2

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

3

শ্রীমঙ্গলে তরুণীকে মোবাইল দেওয়ার প্রলোভনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের

4

সামাজিক ব্যবসা ও প্রযুক্তি নিয়ে জাতিসংঘের আয়োজনে শ্রীমঙ্গলের

5

বৃক্ষপ্রেমী বিষ্ণু হাজরাকে সন্মাননা

6

আমি থামলে যুদ্ধও থামবে : ট্রাম্প

7

পুলিশ দেখে ইয়াবা চিবিয়ে নষ্ট করার চেষ্টা, অবশেষে মাদক ব্যবসা

8

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন

9

নেইমারকে বিশ্বকাপ উৎসর্গ করলেন স্পেনের স্ট্রাইকার

10

ডিজিটাল দুনিয়ায় শ্রীমঙ্গলের তরুণ ফাহিম আহমেদের আলো

11

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

12

শ্রীমঙ্গলের ঐতিহাসিক নির্মাই শিববাড়িতে দুইদিনব্যাপী শিব চতুর

13

কার হাতে যাচ্ছে এবারের ট্রফি

14

শ্রীমঙ্গলে সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে ৪ যুবকের মর্মান্তিক

15

শ্রীমঙ্গলে ৩৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি

16

বিনামূল্যে ১ জিবি ইন্টারনেট মিলবে আজ, পাবেন যেভাবে

17

মৌলভীবাজারে প্রথমবারের মতো উদযাপিত ‘জুলাই উইমেন্স ডে ২০২৫’

18

একসময় ছিল যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র, এখন জরাজীর্ণ ভবনে স্মৃতিই

19

বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা স্টারমারে

20