মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের চৌমুহনা এলাকায় এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে হোটেলে অবস্থানকালে পরিমল পাল নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে স্থানীয় লোকজন আটক করেছেন বলে জানা গেছে। কিস্তিতে সহজ শর্তে ও কম দামে মোবাইল ফোন দেওয়ার প্রলোভনে তরুণীদের ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে চৌমুহনা এলাকার ‘টি টাউন গেস্ট হাউজে’ এক মুসলিম তরুণীসহ অবস্থানকালে পরিমল পালকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। তিনি উপজেলার নয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং মক্কা মার্কেটের ‘গীতা টেলিকম’-এর মালিক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সহজ শর্তে কিস্তিতে কিংবা কম দামে মোবাইল ফোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী অনুরূপ আচরণের অভিযোগ তুলে কয়েকজন নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর প্রায় ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। থানায় খোঁজ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে আসেননি বলে অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন, আবার কেউ হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। মুসলিম তরুণী ও হিন্দু ব্যবসায়ীর ধর্মীয় পরিচয় সামনে আসায় কিছু পোস্টে আন্তধর্মীয় সম্পর্ক ও পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো মন্তব্যে তরুণীকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও দেখা গেছে।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে অভিভাবকদের সচেতনতা, তরুণ-তরুণীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং আর্থিক প্রলোভন সম্পর্কে সতর্ক থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সচেতন ব্যক্তিদের মতে, কারও ধর্মীয় পরিচয় দিয়ে অপরাধ নির্ধারণ করা যায় না; অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও মন্তব্যের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, কথিত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকে।