বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)-এর উদ্যোগে অনলাইন সহিংসতা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধে তরুণ ও প্রবীণ সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সংলাপ জোরদারে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ ও ২২ মে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, তরুণ প্রতিনিধি ও প্রবীণ সমাজের সদস্যরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিইআই’র প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির, প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ডিরেক্টর চৌধুরি সামিউল হক, গবেষণা কর্মকর্তা আবিদ হাসান এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হুসাইন মুহাম্মদ রাইয়ান।
২১ মে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কর্মশালায় ফ্যাক্ট-চেকিং, তথ্য যাচাইয়ের কৌশল এবং অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য শনাক্তকরণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের রিভার্স ইমেজ সার্চ, তথ্যের উৎস যাচাই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
পরদিন ২২ মে অনুষ্ঠিত সংলাপ কর্মসূচিতে তরুণ ও প্রবীণ সমাজ মুখোমুখি আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতার প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, প্রজন্মের মধ্যে বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপের এক পর্যায়ে তরুণ অংশগ্রহণকারীরা শ্রীমঙ্গলে একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক ফ্যাক্ট-চেকিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তিমূলক ও ভুল তথ্য শনাক্ত ও যাচাই করে তা প্রবীণ সমাজের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বক্তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সচেতন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ আয়োজন তাদের তথ্য বিশ্লেষণ ও যাচাইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ ও সচেতন ডিজিটাল সমাজ গঠনে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি, অরাজনৈতিক ও অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সুশাসন, গণতান্ত্রিক চর্চা, নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিনির্ধারণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।