ক্রিকেটের দ্রুততম সংস্করণ হিসেবে পরিচিত আবুধাবি টি-টেনের নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে আগামীকাল। ৭ নভেম্বর থেকে আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের আসর। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির অধিনায়কদের প্রাক-আসর সংবাদ সম্মেলন। সেখানে শিরোপার লড়াই, দলের শক্তি ও ১০ ওভারের ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অধিনায়করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউএই বুলসের কাইরন পোলার্ড, ইয়াস লায়ন্সের জেসন হোল্ডার, রয়্যাল ডেজার্ট চ্যাম্পিয়নসের নিকোলাস পুরান, এমিরেটস ঈগলসের রোভম্যান পাওয়েল, ইউনাইটেড টাইগার্সের ফখর জামান এবং নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যারাবিয়ান এসেসের মঈন আলী।
উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত হয় তিনটি ম্যাচ। ১ম ম্যাচে ইউএই বুলস ৭ উইকেটে জয়ী (ইয়াস লায়ন্সকে হারিয়েছে)। ইয়াস লায়ন্সের ১২০ রানের জবাবে ইউএই বুলস ৯.৪ ওভারে ১২১ রান করে ম্যাচটি জিতে নেয়। ২য় ম্যাচে এমিরেটস ঈগলস ১৬ রানে জয়ী (রয়্যাল ডেজার্ট চ্যাম্পিয়নসকে হারিয়েছে)। এমিরেটস ঈগলসের ১২৫ রানের জবাবে রয়্যাল ডেজার্ট চ্যাম্পিয়নস ১০ ওভারে ১০৯ রান করতে সক্ষম হয়। ৩য় ম্যাচে ইউনাইটেড টাইগার্স ৫১ রানে জয়ী (অ্যারাবিয়ান এসেসকে হারিয়েছে)। ইউনাইটেড টাইগার্সের ১৪০ রানের জবাবে অ্যারাবিয়ান এসেস ১০ ওভারে ৮৯ রানে থমকে যায়।
শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইউএই বুলসের অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড বলেন, “শিরোপা ধরে রাখা সবসময়ই কঠিন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সবাই আমাদের হারাতে চাইবে। তবে আগামীকাল থেকে সবাই নতুনভাবে শুরু করবে। নতুন মৌসুম নিয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত এবং ইতিবাচকভাবে অভিযান শুরু করতে চাই।”
দুর্দান্ত শুরুর গুরুত্ব তুলে ধরে ইয়াস লায়ন্সের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার বলেন, “এই ফরম্যাটে ভালো শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে যেকোনো সময় পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। আমাদের দলে দারুণ কিছু খেলোয়াড় রয়েছে, যারা আগামীকাল মাঠে নামতে মুখিয়ে আছে।”
১০ ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিকোলাস পুরান বলেন, “এই ফরম্যাটে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে। অল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একজন অধিনায়ক হিসেবে খেলোয়াড়দের সমর্থন করা জরুরি, যাতে তারা নিজেদের দক্ষতা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে।”
এমিরেটস ঈগলসের অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল জানান, শিরোপা জিততে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই সমান কার্যকর হতে হবে। দলের ভারসাম্য নিয়ে আশাবাদী তিনি। বিশেষ করে শিমরন হেটমায়ার ও ট্রেন্ট বোল্টের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন পাওয়েল।
ইউনাইটেড টাইগার্সের অধিনায়ক ফখর জামান বলেন, “আমাদের দলে প্রতিভার অভাব নেই। একাধিক ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় রয়েছে। দলের অনেকেই আগে থেকে একে অপরকে চেনে, আর তরুণ খেলোয়াড়রাও ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে। নতুন মৌসুম নিয়ে আমরা রোমাঞ্চিত।”
নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যারাবিয়ান এসেসের অধিনায়ক মঈন আলী দলের লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন, “আমরা এমন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি গড়ে তুলতে চাই, যার প্রতিনিধিত্ব করতে খেলোয়াড়রা গর্ববোধ করবে। মাঠে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের উন্নয়ন ও উৎকর্ষের সংস্কৃতি গড়ে তোলাও আমাদের লক্ষ্য।”
৭ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ২০২৬ সালের আবুধাবি টি-টেন। আবুধাবি ক্রিকেট অ্যান্ড স্পোর্টস হাবের (ADCSH) সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা গ্রহণের পর এটিই টুর্নামেন্টটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ আসর। আবুধাবি স্পোর্টস কাউন্সিল (ADSC) ও এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের (ECB) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই প্রতিযোগিতা।
এবারের আসরেও থাকছে ১০ ওভারের উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট, আন্তর্জাতিক তারকাদের অংশগ্রহণ এবং শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর লড়াই। টুর্নামেন্টের ৩২টি ম্যাচ ভারতের স্টার স্পোর্টসের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পাশাপাশি জিওহটস্টারে ম্যাচগুলো সরাসরি দেখা যাবে।
নতুন মৌসুমে ছয় দলের লড়াই, তারকাদের পারফরম্যান্স এবং শিরোপা জয়ের প্রতিযোগিতা ঘিরে ইতোমধ্যে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।