ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ রান, বল হাতে বিধ্বংসী স্পেল—অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন উইল জ্যাকস। তাঁর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে শ্রীলঙ্কাকে ৫১ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
রোববার পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম–এ কম রানের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৯ উইকেটে তোলে ১৪৬ রান। সংগ্রহটি লড়াই করার মতো হলেও খুব বড় ছিল না।
ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল ইংল্যান্ড। নিচের দিকে নেমে জ্যাকস ২১ রান যোগ করে স্কোরে অবদান রাখেন। তবে আসল পার্থক্য গড়ে দেন বল হাতে—২২ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। মাত্র পাঁচ ওভারে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ২২ রানে ৪ উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৭ ওভারের মধ্যেই ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।
ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত জ্যাকস বলেন, ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারা তাঁকে আরও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে। পাওয়ারপ্লেতে বোলিং করাও তাঁর জন্য নতুন কিছু নয় বলে জানান তিনি।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা শুরুতে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের ইনিংসের অর্ধেক পথ পেরোতেই স্কোর ছিল ৬৮ রানে ৪ উইকেট।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার মাত্র ৭ রান করে আউট হন। ইন-ফর্ম জ্যাকব বেথেলকে ফেরান মাহিশ থিকশানা, আর টম ব্যান্টন হন রানআউট।
তবে ইনিংসে গতি আনেন ফিল সল্ট। তিনি ৩৬ বলে ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও ১৫তম ওভারে আউট হলে বড় সংগ্রহের আশা ফিকে হয়ে যায়।
পরে বল হাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ইংল্যান্ড। জোফরা আর্চার ফেরান ইন-ফর্ম ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কাকে। এরপর জ্যাকস টানা দুই বলে আউট করেন কুশল মেন্ডিস ও পবন রত্নায়েকেকে।
আরেক দফা ধাক্কা দেন আর্চার, ফিরিয়ে দেন কামিল মিশারাকে। পরে দুনিথ ওয়েলালাগেও জ্যাকসের শিকার হলে ৩৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা।
শেষ দিকে কিছুটা লড়াই করেন শানাকা, করেন ৩০ রান। তবে তাঁর বিদায়ের পর আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি স্বাগতিকরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে শ্রীলঙ্কা।
মন্তব্য করুন