চায়ের জনপদ
প্রকাশ : Jul 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

না ফেরার দেশে বন্যপ্রাণীর অকৃত্রিম বন্ধু সীতেশ বাবু, শোকাহত শ্রীমঙ্গল

বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বন্যপ্রাণী সংগ্রহশালা ‘সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা (বন্য পশুপাখি সেবাশ্রম)’-এর প্রতিষ্ঠাতা, প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিবেদিতপ্রাণ সীতেশ রঞ্জন দেব (সীতেশ বাবু) আর নেই। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা ০৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গলসহ দেশের প্রকৃতিপ্রেমী, পরিবেশকর্মী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সীতেশ বাবু ছিলেন বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এক অনন্য পথিকৃৎ। তাঁর পিতা শ্রীশ দেবের হাত ধরে প্রাণিসেবার প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয়। সেই আগ্রহ থেকেই ১৯৭১ সালে তিনি আহত, অসুস্থ ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা, পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলেন ‘বন্য পশুপাখি সেবাশ্রম’, যা পরে মানুষের কাছে ‘সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁর সেবাশ্রমে হরিণ, ভালুক, হনুমান, অজগর, মেছোবাঘ, গুঁইসাপ, সজারু, ধনেশ, ময়না, টিয়া, বিভিন্ন প্রজাতির বিরল পাখিসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর আশ্রয় হয়েছে। সুস্থ হয়ে উঠলে অনেক প্রাণীকেই আবার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হতো। একসময় সেবাশ্রমটি শ্রীমঙ্গল শহরে থাকলেও পরে এটি রূপসপুর এলাকার খামারবাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এই সেবাশ্রমে প্রবেশে কোনো ফি নেওয়া হতো না, যা প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসারই প্রতিফলন।

সীতেশ বাবুর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ১৯৯১ সালে একটি বন্য ভালুকের আক্রমণ। সেই হামলায় তিনি মুখমণ্ডলের একটি বড় অংশ হারান এবং দীর্ঘ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে নতুন জীবন ফিরে পান। কিন্তু সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাও তাঁকে বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বরং তিনি সারাজীবন আহত ও অসহায় প্রাণীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন। তাঁর ভাষায়, “ভুলটা আমার ছিল, প্রাণীদের নয়।”

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সীতেশ বাবুর অবদান শ্রীমঙ্গলের গণ্ডি পেরিয়ে দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বন্য পশুপাখি সেবাশ্রম অসংখ্য আহত প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও সচেতনতা তৈরিতে বিশেষ অবদান রেখেছে।

সীতেশ বাবুর মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তাঁরা তাঁর আজীবনের অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। প্রকৃতির এই নিবেদিতপ্রাণ মানুষটির বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন সর্বস্তরের মানুষ। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানানো হয়েছে গভীর সমবেদনা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শারদীয় দুর্গোৎসবে শ্রীমঙ্গলে অঙ্গীকার সামাজিক ও সাহিত্য পরিষ

1

শ্রীমঙ্গলে সংস্কৃতির বিকাশে এমপি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মতব

2

শ্রীমঙ্গলে থানার অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক দুই আসামি গ্রেফ

3

চোরাই মোটরসাইকেল ও নগদ টাকাসহ চোর চক্রের মূলহোতা আটক

4

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে ‘পাঠক কর্নার’ উদ্বোধন

5

আমাদের জীবিত কিংবদন্তি দিলারা জামান...

6

শ্রীমঙ্গলে নতুন সার্কেল এএসপি হিসেবে যোগ দিলেন মোঃ ওয়াহিদুজ্

7

ঈদে দীর্ঘ ছুটির সুখবর আসছে

8

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

9

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

10

সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেম করার ১১ সুবিধা

11

শ্রীমঙ্গলে আলোচিত রীমা অপহরণ রহস্য উন্মোচিত: পরিবারের সদস্যর

12

পুত্রবধুর পরকিয়ার জেরে যৌতুক মামলা এবং সমাজচ্যুত একটি পরিবার

13

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

14

শ্রমিক পরিবারের সন্তান থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: কবি সংগীত

15

১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: প্রস্তুত ঢাকা, উত্তেজনায়

16

মঙ্গলবার বাজারে আসছে ১০০ টাকার নতুন নোট

17

আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ

18

শ্রীমঙ্গলে অস্থায়ী চা শ্রমিকদের সমান মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ স

19

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে এখন পর্যন্ত নিহত ১৮

20