বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন মেতে উঠেছে গোটা বিশ্ব, তখন সেই উচ্ছ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করতে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে ফিরেছেন দেশের খ্যাতিমান সুরকার ও সংগীত পরিচালক আরমান খান। প্রায় ১৪ বছর পর তাঁর লেখা ও সুর করা নতুন গান ‘ফুটবল ফুটবল’ প্রকাশিত হয়েছে ১০ জুন।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে নির্মিত গানটি ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমী ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন বিজয় ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল বিজয় মামুন। গানটির কথা ও সুর করেছেন আরমান খান নিজেই। বিশ্বকাপের আবহে তৈরি এ গানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এটি প্রকাশ করেছে সংগীতা।
নতুন গান প্রসঙ্গে আরমান খান বলেন, “বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বিশ্বব্যাপী আনন্দ-উৎসব। ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। গানের মাধ্যমে আমিও এই বৈশ্বিক উৎসবের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চেয়েছি।”
সংগীতাঙ্গনে আরমান খান একটি পরিচিত নাম। তিনি বাংলাদেশের কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলম খান-এর ছেলে এবং পপসম্রাট আজম খান-এর ভাতিজা।
বর্তমানে তিনি Grand Sultan Tea Resort & Golf-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে তিনি নিয়মিত গান সৃষ্টি ও সংগীতচর্চায় সময় দিচ্ছেন। গত বছর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে একটি আধুনিক স্টুডিও চালু হওয়ার পর তাঁর সংগীতচর্চা আরও গতিশীল হয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ এবং দুই হাজার দশকের শুরুর দিকে বাংলা ব্যান্ড ও আধুনিক গানের জগতে দ্রুত পরিচিতি পান আরমান খান। প্রমিথিউস ব্যান্ডের বিপ্লবের কণ্ঠে ‘চান্দের বাতির কসম দিয়া’, আর্ক ব্যান্ডের হাসানের গাওয়া ‘শীত নয় গ্রীষ্ম নয় এসেছে বসন্ত’ ও ‘লাল বন্ধু নীল বন্ধু’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন তিনি।
২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে মাত্র তিন বছরে প্রায় ২৩টি অডিও অ্যালবামের কাজ সম্পন্ন করেন আরমান খান। শুধু গান নয়, নাটকের আবহসংগীতেও তিনি গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র পরিচিতি। নাট্যকার আবদুল্লাহ আল-মামুন-এর রচনা এবং বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক ধারাবাহিক নাটক জোয়ার ভাটা দিয়ে তাঁর নাটকের আবহসংগীত তৈরির যাত্রা শুরু হয়। ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় ১ হাজার ২০০ নাটকের আবহসংগীত নির্মাণ করেছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর ‘ফুটবল ফুটবল’ গানের মাধ্যমে আরমান খানের এই প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংগীতপ্রেমীরা।