দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও নানা উদ্যোগের পর অবশেষে সম্প্রসারিত হলো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভা। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৯০ বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।
১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মূল আয়তন ছিল ২ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার। চা-শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের প্রসারে শহরের জনসংখ্যা এবং পরিধি বাড়লেও দীর্ঘদিন পৌরসভার সীমানা অপরিবর্তিত ছিল। ফলে শহরসংলগ্ন অনেক এলাকা ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থেকে যায়। এসব এলাকার বাসিন্দারা সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি ও অন্যান্য নাগরিক সেবা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণে ১৯৮১ সালে গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সম্প্রসারণের প্রস্তাবে শ্রীমঙ্গল সদর, কালীঘাট ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের রূপসপুর, ভাড়াউড়া, সুইনগর, ফুলছড়া, ভুরভুরিয়া, রামনগর ও উত্তরসুরসহ বিভিন্ন মৌজা ও গ্রাম অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, পৌরসভার আয়তন ২ দশমিক ৫৮ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটার হওয়ার কথা ছিল।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান জানিয়েছিলেন, নাগরিক সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে সম্প্রসারণের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, অনুমোদন পাওয়া গেলে জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
গেজেট প্রকাশের ফলে এখন সম্প্রসারিত এলাকার সীমানা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নাগরিক সেবা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, পৌরসভার সম্প্রসারণের সুফল হিসেবে উন্নত সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি ও পরিকল্পিত নগরায়ণের সুযোগ তৈরি হবে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এই অগ্রযাত্রা শ্রীমঙ্গলকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।